আছিম বাজারে অসুস্থ্য গরু জবাই মাংস জব্দ

প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ আছিম বাজারের প্রভাবশালী কসাই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ সস্তাদামে অর্ধমৃত, রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ্য গরু ক্রয় করে চড়া দামে গরুর মাংস বিক্রি করে আসছিল। কসাইদের অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পেত না। স্থানীয় এলাকাবাসী ছিল জিম্মি । আছিম বাজারে মরা গরু বা অসুস্থ্য গরুর মাংস বিক্রি হয় বা পাওয়া যায় এমন প্রচার ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকাতেই প্রচার ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) ভবানীপুর এলাকার আমজাত মাস্টারের বাড়ীর তোফাজ্জলের গাভী গরুটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে এবং গত সোমবার (৩১ আগষ্ট) স্থানীয় চিকিৎসকরা বলে দেন গরুটি বাঁচার সম্ভাবনা কম। তোফাজ্জল তার আদরের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার গাভীটি অসুস্থ্য হওয়ার পর তোফাজ্জল নিজেও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আছিম বাজারের দুর্নীতি পরায়ন কসাই রিয়াজ-হাবিব চক্র পরদিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অসুস্থ্য বা মৃতপ্রায় গাভীটি ভোরেই জবাই করে বস্তাভর্তি করে আছিম বাজারে নিয়ে এসে বিক্রি শুরু করে। ঐ খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাপ্তাহিক ফুলখড়ি’কে অবগত করা হয়। এ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না অবহিত করা হয়। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই রুবেল কে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠান এবং সেখানে তিনি সততার প্রমাণ পান। এক পর্যায়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কসাই রিয়াজ ও হাবিব কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, ১২০কেজি মাংস জব্দ করে মাংস সহ ভুরি ও চামড়া মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনাটি আছিম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে।
আছিম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাইনুল হক বুলবুল বলেন, আমরা ২/৩দিনের মধ্যে কসাইদের সঙ্গে বৈঠক করে গরু জবাই করার সরকারী যে নিয়ম-কানুন রয়েছে- তা বাস্তবায়ন করবো।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক ফুলখড়ি’কে বলেন, এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।