প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারে ঝটিকা অভিযানঃ ৩শিক্ষক আটক

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার গত ১৭ মার্চ ২০২০ইং তারিখ থেকে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে আগামী ০৬ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকার ঘোষণা রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কিছু কিছু স্কুল, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট বাণিজ্য রমরমাভাবে কিছু অসাধু শিক্ষক চালাচ্ছে এমন অভিযোগ সকল পর্যায়ে তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছিল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে গত বুধবার (৮ জুলাই) আনুমানিক সকাল পনে ৮ টা থেকে পনে ১০ টা পর্যন্ত পুলিশ ছাড়াই সাহসিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন।

ফুলবাড়ীয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কোচিং সেন্টারে তিনি প্রথম হানা দেন, মরিচমহল নাজমুল মাস্টারের কোচিং সেন্টারে অভিযান চালান, পুরাতন গরুহাটায় এ্যাডভান্স স্কুলে ক্লাসরত অবস্থায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ মাস্টারকে আটক করেন, ফুলবাড়ীয়া কে.আই.ফাযিল মাদ্রাসা সংলগ্ন স্কুল, শাহীন স্কুলেও অভিযান চালিয়ে মোট ৩জন শিক্ষককে আটক করেন। এ খবরটি ফেইচবুকে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অপর স্কুল ও কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দিয়ে অসাধু শিক্ষকরা দ্রুত সটকে পড়ে।

উল্লেখিত ৩জন শিক্ষককে মুক্ত করে নিতে উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে জোর লবিং শুরু হয়। শেষ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঙ্গিকার নামা নিয়ে শর্তসাপেক্ষে তাদেরকে ছেড়ে দেন। উল্লেখ্য যে, পুরতান গরুহাটায় এ্যাডভান্স স্কুলের পরিচালক শরিফ মাস্টার তিনি নিজে বাকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তার স্ত্রী ফুলবাড়ীয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তারা দুজনে সরকারি অনেক টাকা বেতন পান। এর পরও ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের মধ্যে এত বড় অনৈতিক কাজ তিনি কিভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এ প্রশ্ন স্থানীয়দের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ তিনি কখনো নিয়ম-কানুন মানেন না। অনৈতিক কাজকে তিনি সব সময় নিয়মে পরিণত করার চেষ্টা করেন। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশেষ করে কেজি স্কুল (প্রি-ক্যাডেট) এর প্রকৃত শিক্ষকগণ তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারা এখন সরকারি কোন সহযোগিতা পান নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই ঝটিকা অভিযানটি সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে।