ছেলের নির্যাতনে ৩ বছর ধরে বাড়ী ছাড়া বাবা

প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

হাফিজুল ইসলাম স্বপনঃ জমি জমা লিখে নিয়ে জন্মদাতা পিতা-মাতাকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি ৩ বছর ধরে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছে ছেলে, ছেলের বউ এবং নাতী । এমন হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের শ্রীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামে। কখনো অন্যের বাড়ি, কখনো মেয়ের বাড়ি থেকে, মানুষের কাছে চেয়ে চেয়ে খেলেও অবশেষে বন্ধ হয়েছে মেয়ের বাড়ির দড়জাও। তাই এখন সহায় সম্বল হারিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া পিতা আকবর আলী এবং মা আমেনা খাতুনের আশ্রয়ের ঠিকানা হয়েছে শুধু গাছতলা।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে গতকাল বুধবার এলাকাবাসী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাখনের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও পাষন্ড ছেলেকে কয়েকবার চেষা করেও হাজির করতে পারে নি চেয়ারম্যান ।

এ বিষয়ে বাক্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাখন বলেন, ঘটনাটি খুব ন্যক্কারজনক। আমি নির্যাতিত পিতার কাছে ঘটনাটি বিস্তারিত শোনার পর ছেলে কাদের, তার স্রী কুলসুম এবং তার নাতি মামুন কে কয়েকবার চেষ্টা করেও হাজির করতে পারি নি। আমি চাই এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক তার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে পরিষদের  পক্ষ থেকে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, কছিম,উদ্দিন, নিয়ত আলি, সোহাগ, সিদ্দিক, নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অসহায় পিতা আকবর আলীর উপর এমন অমানবিক নির্যাতন বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। সম্প্রতি রতন নামের একজন ভ্যান চালক এই নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গেলে বেধড়ক পেটায় রতনকে। রতনের নামে থানায় অভিযোগ করে পুলিশি হয়রানি করে তাকে । সন্তানের হাতে পিতা মাতার এমন নির্যাতন সহ্য করার মতো না। আমরা এমন সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে প্রশাসনের কাছে তার বিচার দাবি করি আমরা।

জানাযায়, উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের আকবর আলীর এক ছেলে এবং দুই মেয়ে। আকবর আলী তার সম্পত্তির কিছু অংশ মেয়েদের নামে লিখে দেওয়ার পর থেকে ছেলের চক্ষুশূল হয়ে যায় পিতা-মাতা। তখন থেকেই নানানভাবে নির্যাতনের শিকার হতে থাকে এই বৃদ্ধ পিতা-মাতা। একপর্যায়ে ভুলিয়ে-ভালিয়ে পিতার কাছ থেকে লিখে নেয় তার বাকি সমস্ত জমিটুকু, তারপর থেকেই শুরু হয় নির্যাতনের স্টিম রোলার। খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেওয়াসহ লাঠি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি অমানসিক নির্যাতন করে সন্তান এবং সন্তানের স্ত্রী। বৃদ্ধ পিতা-মাতা ভাবে হয়তো হয়তো নিজের ভুল বুঝতে পারবে তার সন্তা তাই এতদিন কাউকে কিছু না বলে বোবার মত সয়ে গেছেন নির্যাতন। প্রায় তিন বছর যাবত মানুষের বাড়িতে কাজ করে, এ বাড়ি ও বাড়ি থেকে, কোনভাবে দিন কাটালেও এখন আর থাকার কোন জায়গা নেই এই বৃদ্ধ পিতা-মাতার তাই এখন তাদের ঠিকানা হয়েছে গাছতলা।

এবিষয়ে ফুলবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, পৃথিবীতে এর চেয়ে অমানবিক আর ন্যক্কারজনক কিছু হতে পারে না। বিষয়টি আমি এইমাত্র শুনলাম, অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।