ফুলবাড়ীয়ার ভিলেন নিকেন বাবু’র অজানা কথা

প্রকাশিত: ২:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

মো. আ. জব্বার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়ার কৃতিসন্তান, অভিনেতা নিকেন বাবু বলেন, আমি নায়ক হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আগ্রহ নিয়ে অভিনয় জগতে এসেছিলাম। কিন্ত সিনেমা জগতে নায়ক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে যেসব গুণাবলী বা বৈশিষ্ট থাকা দরকার তার অনেক কিছুই আমার মাঝে ঘাটতি ছিলো- সেটা আমি তখন বুঝতে পারি নি। যখন বুঝতে পারলাম যে আমার পক্ষে নায়ক হওয়া সম্ভব না- তখনই আমি ভিলেন হিসেবে কাজ শুরু করি। আমি যদি নায়ক হওয়ার চেষ্ঠা না করে, শুরু থেকেই খলনায়ক (ভিলেন) হিসেবে কাজ শুরু করতাম- তাহলে আমি আজ ভাল করতাম। মানুষে সব ইচ্ছাই সবসময় পুরন হয় না- সেটা বুঝতেই দেরি হয়ে গেছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে সিদ্দিখালী বাজারে তার চেম্বারে একান্ত আলাপ চারিতায় অভিনেতা নিকেন বাবু এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, তবে অভিনয় জগতে এখনো ভাল অভিনেতা হওয়ার সময় রয়েছে। দেশের নামকরা স্বনামধন্য সিনেমা পরিচালকগণ যদি কোন অভিনেতার প্রতি সু-দৃষ্টি দেন- তাহলেই একজন অভিনেতা জিরো থেকে হিরো হওয়ার কোন ব্যাপারই না।

একজন ভাল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শ্রদ্ধেয় বদিউল আলম খোকন, কাজী হায়াৎ, আজিজ আহাম্মেদ সহ নামকরা পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট সকলে আমার প্রতি সু-দৃষ্টি রাখবেন বলে আমি আশা করি। ১৯৭৬ সালের ৭ মার্চ ফুলবাড়ীয়ার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের ডিগ্রীভূমি গ্রামের জরিমোহন ক্ষত্রীয় ও করফুলা রাণীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন সুরঞ্জন সরকার ওরফে নিকেন বাবু।

সুরঞ্জন সরকার (নিকেন বাবু) হাতিলেইট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করে বাবুগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সখীপুরের কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এস.এস.সি পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সখিপুরের মুজিব মহাবিদ্যালয় থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স ৩য় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করলেও ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হয়নি তাঁর। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ইন্টারভিউর মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন নিকেন বাবু।

জলন্ত জেসমিন, অপরাধ জগত, বীর বাঙ্গালী, দাদাগুরু দূর্গা দেবী সহ ৭/৮ সিনেমায় অভিনয় করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন নিকেন বাবু। এছাড়াও তিনি অসংখ্য নাটক ও শর্ট মিল্মে কাজ করেছেন। বৈবাহিক জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। তিনি একজন জন নন্দিত ও নামকরা অভিনেতা হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য পরিচালকদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এবং সকলের নিকট আশীর্বাদ চেয়েছেন।