২৪ ঘন্টায় নারী হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

হাফিজুল ইসলাম স্বপনঃ ফুলবাড়ীয়ায় গার্মেন্টকর্মীকে হত্যার পর অজ্ঞাত হিসাবে নারীর বিবস্র লাশ ফেলে খুনি পালিয়ে যাওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরিচয় সনাক্তকরণ ও খুনিকে গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে হত্যার কান্ডের মূল হোতা কে ফুলবাড়িয়ার শ্রীপুর গ্রাম থেকে শুক্রবার (বৃহ¯প্রতিবার দিবাগত) রাতে গ্রেফতার করে।  গ্রেফতারকৃত রাজাবালি ডিবি পুলিশ ও আদালতের কাছে হত্যাকান্ডের দায় স্বিকার করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ১০ জুন ফুলবাড়িয়ার শ্রীপুর গ্রামের একটি কচু ক্ষেতে  অজ্ঞাত এক মহিলার (৩০)বিবস্র লাশ স্থানীয়রা দেখতে পায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়িতা শিল্পী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লাশ অজ্ঞাত, খুনিও অজ্ঞাত। এরপরও আঘাতের চিহৃ দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করে নির্মমভাবে ঐ নারীকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান নির্মম হত্যকান্ডকে প্রধান্য দিয়ে এবং গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে লাশের পরিচয় দ্রুত সনাক্ত এবং খুনিকে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে ফুলবাড়িয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ সুপার তাৎনিক ডিবি পুলিশকে মামলা তদন্তসহ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে খুনিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দের তত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির টিম সেখানে অবস্থান নেয়।
এদিকে সিআইডি পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই পুলিশও ছায়া তদন্তে নামে। ডিবি পুলিশ টানা ৪৮ ঘন্টা খোজ খবর নিয়ে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের একমাত্র ঘাতক রাজাবালিকে শুক্রবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, লাশের পাশে পড়ে থাকা একটি বেনেডি ব্যাগে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া পাওয়া যায়। ঐ মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে নিহতের আত্নীয় আল আমীনকে পাওয়া যায়। পরে ডিবি পুলিশ আল আমীনের কাছে নিহতের ছবি পাঠায়। ছবি দেখে আল আমিন লাশ সনাক্ত করেন এবং নিহতের বাবাকে খবর দেন। নিহতের বাবা মজিবর রহমান। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানার ছিন্নাই পাড়া গ্রামে। পরে মজিবর রহমান ফুলবাড়িয়া থানায় এসে তার মেয়ে পারভীন আক্তারের লাশ সনাক্ত এবং অজ্ঞাত আসামীদের নামে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলা নং-১১(৬)২০২০। ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০। ডিবির ওসি আরো জানান, বেনেডি ব্যাগে ছোট একটি কাগজে লেখা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লাশের পরিচয় সনাক্ত হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যায় তার বাড়ি কালিহাতি এবং চাকুরী করতেন গাজীপুরের কোনাবাড়িতে।
নিহত ভিকটিম লাভলী আক্তারের মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে।  ডিবি পুলিশ টানা ৪৮ ঘন্টা  অভিযানে তথ্যানুসন্ধান ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়, ফুলবাড়িয়ার বাক্তার শ্রীপুর গ্রামের রাজাবালি নামক এক ব্যক্তির সাথে নিহত লাভলী আক্তারের সাথে গত ৯ জুন রাতে কথা হয়েছে। এরই সুত্র ধরে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের তত্বাবধানে এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া নিহতের মোবাইল ও কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত রাজাবালির বরাত দিয়ে ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজাবালি পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের দায় স্বিকার করেছে। সে পুলিশকে জানায়, প্রায় ৬ মাস আগে মোবাইল ফোনে মিস কলের মাধ্যমে লাভলী আক্তারের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর ফোনে ফোনে তাদের মধ্যে গড়ে উঠে গভীর  সম্পর্ক। রাজাবালির কথিত প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে এবং প্রলোভনে পড়ে বিশ্বাস করে গামেন্টকর্মী লাভলী আক্তার। এক পর্যায়ে রাজাবালির ডাকে কিছু দিন আগে ফুলবাড়িয়ার শ্রীপুর গ্রামে চলে আসেন লাভলী আক্তার। উভয়ের মাঝে দৈহিক সম্পর্কও হয়। এর আগে লাভলী তার কাছে এলেও ভালো ভাবেই ফেরত পাঠিয়েছে রাজাবালি। একইভাবে ৯ জুন বিয়ের আশ্বাসে রাজাবালি গামেন্টকর্মী লাভলী আক্তারকে তার নিজ এলাকায় নিয়ে আসে। প্রেমের ছলনায় আবারো লাভলী আক্তারের সর্বস্ব কেড়ে নেয় রাজাবালি। সর্বস্ব হারিয়ে লাভলী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে  রাজাবালি বিয়ে করতে অস্বিকার করলে লাভলী  ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্বহত্যার চেষ্ঠা করে। উপায়ান্তর না দেখে রাজাবালি পিছন দিক থেকে গামছা দিয়ে লাভলীকে শ্বাসরুদ করে হত্যা করে। পরে তার লাশ কচুক্ষেতে  ফেলে পালিয়ে যায়।রাজাবালি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে হত্যার দায় স্বিকার করে। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে রাজাবালি হত্যার দায় স্বিকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।