ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিবন্ধী ভাতা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ মেম্বারের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০

 মো. আ. জব্বার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৭নং বাকতা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা এবং ব্যাংক থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলনের সময় ৪,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সুবিচার চেয়ে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিবন্ধী ছালমার পিতা আমিনুল।

আমিনুল, তার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- আমি একজন অতিদরিদ্র মানুষ। পরের জায়গায় ঘর তুলে কোনমতে দিনাতিপাত করি। আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য গত এক বছর আগে দুলাল মেম্বারকে ৭ হাজার টাকা দেই। দুলাল মেম্বার ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে আমার মেয়েকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেন। মেয়েটির নাম মোছা: ছালমা, বই নম্বর-৩১/১ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর- ২৪৬।

গত ১ জুন-২০২০ইং তারিখে প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রী কৃষি ব্যাংক, বাকতা বাজার শাখায় গিয়ে ৬,৭৫০/- টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করেন। ভাতা উত্তোলনের পর আমার স্ত্রী ও মেয়ে ব্যাংকের নিচে ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধেসলেই দুলাল মেম্বার সবগুলো টাকাই নিয়ে নেন। পরে দুলাল মেম্বার ৪৫০০/- টাকা রেখে আমার স্ত্রীর হাতে ২২৫০/- টাকা দিয়ে মা ও মেয়েকে বিদায় করে দেয়।

অভিযোগকারী আমিনুল বলেন, মেম্বারকে জানিয়েও টাকা ফেরৎ না পেয়ে, স্থানীয়দেরকে বিষয়টি জানানোর পর সু-বিচারের আশায় ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করলাম।

৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু হানিফা বলেন, আমিনুল অত্যন্ত গরীব মানুষ। তার টাকাটা এভাবে নিয়ে মেম্বার সাহেব ঠিক করেন নি। এটা দুঃখজনক। তবে এটা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ফজলুল হক মাখন বলেন, বিষয়টি আমি শুনার পর সকল মেম্বারের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মেম্বারকে বলেছি- এ ধরণের কোন ঘটনা হয়ে থাকলে টাকা ফেরৎ দিতে। তবে আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। আমি লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত মেম্বারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার বলেন, এবিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন, প্রতিবন্ধীর কার্ডের কথা বলে আমি কোন টাকা নেই নি। যার টাকা সেই ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছে। আর দিন-দুপুরে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।