আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম বাবলু চেয়ারম্যান না ফেরার দেশে: সাংসদের শোক

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২২

মো. আ. জব্বার :
উপজেলার ৫নং দেওখোলা ইউপি চেয়ারম্যান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য, শুভরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা কুরবান আলী চেয়ারম্যান সাহেবের সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম বাবলু’র জানাযা নামাজের পূর্বে মরহুমের স্মৃতিচারণ করে গণপরিষদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সরকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন এ্যাডভোকেট বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে নিজেকে একজন ভাল মানুষ ও আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যেসব ভাল কাজ করেছেন- তার মধ্যে হলো তিনি মা’কে নিয়ে হজ্ব করেছেন, লম্বা পাঞ্জাবী পড়তেন, নামাজ পড়তেন এবং জনসেবার সহ বিভিন্ন ভাল ভাল কাজ করেছেন।
মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কমনা করে শোকসন্তোপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাবলু’র মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমি ঢাকা থেকে এসে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখি মায়ের কান্না, বৌয়ের কান্না, সন্তানের কান্না, কান্নার রোল পড়ে গেছে। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের কান্না দেখে আমি আমি সেখানে টিকতে পারলাম না। অনেকক্ষণ চোখের পানি ফেলে চুপ করে বসে রইলাম।
তিনি বলেন, বাবলু ও তার বাবা আমাকে অনেক শ্রদ্ধা করতো আমিও বাবলুকে অনেক ভালবাসি। আমি কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং ৩টি রাস্তাই আমি দিয়েছি দেওখোলায় সেটা বাবলুর জন্য হয়েছে। এই ইউনিয়নে যে সমস্ত কাঁচা রাস্তা হয়েছে, সেটা করেছে বাবলুর বাবা মরহুম কোরবান আলী চেয়ারম্যান। তখন আমি ও আ.ন.ম নজরুল ইসলাম গণপরিষদ সদস্য ছিলাম।
তিনি বলেন, বাবলু ভাগ্যবান কারণ তার মা এখনো জীবিত রয়েছেন- বাবা-মা যদি সন্তানের জন্য দোয়া করে তাহলে সরাসরি কবুল হয়ে যায়। কিন্ত কষ্টটা হলো মায়ের। তাজুল ইসলাম বাবলু দেওখোলাবাসী কে খুবই ভাল বাসতো- যে কারণে তিনি জেলা পরিষদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন। ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই তিনি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অপরদিকে দেওখোলাবাসীও বাবলুকে অত্যাধিক ভাল বাসতো- সেটা আজকের জানায়ই বুঝা গেল।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাদ জহুর দেওখোলা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন হরেকৃষ্ণ ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম বাবলু চেয়ারম্যানের জানাজা নামাজের পূর্বে আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন এমপি এসব কথা বলেন।
মরহুমের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ থান পাঠান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান-১, মমতাজ আলী মন্তা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- এম. এ কদ্দুছ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাহিদুল করিম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আ. মালেক সরকার, পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদ হারুন, চেয়ারম্যানদের পক্ষে রাধাকানাই ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শিমুল তরফদার, দেওখোলা জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদল, হরেকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম রব্বানী, পরিবারের পক্ষে কথা বলেন ছোট ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম মাস্টার, মেয়ের জামাতা সজিব। জানাযা নামাজে ইমামতি করেন কাতলাসেন কাদেরীয়া কামিল মাদ্রাসার হেড মোহাদ্দিস মাও. মো. খোরশেদ আলম মাদানী।
পরিচালনা করেন প্রভাষক মাহবুবুল কাদের মাসুম। তিনি মৃত্যুকালে মা, স্ত্রী, ৪মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। মরহুমের জানাযা নামাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম ওলামা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সহ সমাজের সকল শ্রেণি ও পেশার লোকজন অংশ নেন। জানাযা নামাজ শেষে শুভরিয়া মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা কোরবান আলী সরকারী প্রথামিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

শোক সংবাদ:

দেওখোলা ইউপি চেয়ারম্যান, ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য, শুভরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা কুরবান আলী সাহেবের সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম বাবলু’র মৃত্যুতে গণপরিষদ সদস্য, প্রবীণ নেতা, সরকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন এমপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. ইমদাদুল হক সেলিম এ্যাড., সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদ, ফুলখড়ি’র সম্পাদক ও প্রকাশক আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম খান, সাংবাদিক আ. জব্বার পৃথক বিবৃতিতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তোপ্ত পরিবারের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯:০০ ঘটিকায় ভারতের কলকাতার মুকুন্দপুর “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসপাতালে” চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি  দীর্ঘ দিন যাবৎ কিডনীসহ জটিল রোগে ভোগছিলেন।