১৮ দিনেও গ্রেফতার হয়নি রুমার ঘাতক স্বামী

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:

যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা ও একটি গরু না দেওয়ায় এক সন্তানেরর জননী গৃহবঁধু রুমা আক্তারকে স্বামীসহ তার পরিবার মিলে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে বলে অভিযোগ রুমার পরিবারের।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ফুলবাড়িয়া পৌর সদরের ভালুকজান সড়কে মানবন্ধন করে গৃহবঁধু রুমা আক্তার হত্যাকারী ঘাতক স্বামী দুলাল মিয়াসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান রুমার গ্রামের মানুষ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তাগাছা উপজেলার মহেষপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি’র নিজ বসত ঘর থেকে রুমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দিন রুমার পিতা সাইফুল ইসলামকে বাদী করে স্বামী দুলাল মিয়া (২৬) ও তার বড় বোন রেহেনা (৩০) কে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা রুজু করে পুলিশ। মামলা হওয়ার ১৮ দিন অতিবাহিত হলেও আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশ কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ ও রুমার পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের পানের ভিটা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের কন্যা রুমা আক্তার (২২)। চার বছর আগে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবাহ হয় মুক্তাগাছা উপজেলার মহেষপুর গ্রামের দিল মাহমুদের ছেলে দুলাল মিয়ার কাছে। বিয়ের পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। পুত্র আবির হোসেন বয়স এখন দুই বছর। বিয়ের পর থেকে যৌতুক দাবী করে আসছিল স্বামী দুলাল মিয়া। চার বছরে প্রায় মালামালসহ প্রায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয় রুমার পরিবার। গত দুই মাস আগে ৫০ হাজার টাকা ও একটি গরু যৌতুক দাবী করে স্বামীসহ তার পরিবার। রুমার পরিবার যৌতুক দিতে পারবেনা অস্বীকৃতি জানালে রুমার উপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে। স্বামীর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে যৌতুকের টাকা ও গরু নিতে পিত্রালয়ে আসে। কিন্তু তার পিতা মাতা আর যৌতুক দিতে পারবে না জানিয়ে দিলে চলে যায় মহেষপুর স্বামীর বাড়ি। এরপর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে রুমা আক্তারে উপর।
রুমার পিতা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মেয়ে শ্বশুড় বাড়িতে ভালো থাকবে সে আশায় বিয়ের পর প্রায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছি। ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে আরও ৫০ হাজার টাকা ও একটি গরু যৌতুক দাবীর করে স্বামী ও তার পরিবার, না দেওয়ার কারনে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন আমার মেয়েকে হত্যা করে। তিনি আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামীদের গ্রেফাতারে কোন তৎপরতা নেই। দ্রুত ঘাতক স্বামীসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবী করছি।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, গৃহবধু মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা বুঝা যাবে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে, আশা করছি দ্রুত গ্রেফতার হয়ে যাবে।