শিক্ষার্থী আবু রায়হান একজন সফল চাষী

Jamal Jamal

Khan

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

সেলিম হোসাইনঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার হরি পুর গ্রামের যুবক আবু রায়হান। কৃষক বাবা আব্দুল মোতালেব শিকদারের কাছ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি তার বাড়তি আগ্রহ আগে থেকেই। তাইতো পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেছিলেন রায়হান। সাফল্যেও পেয়েছেন বেশ।

চার বছর আগে কলা বেগুন চাষ দিয়ে তার কৃষিকাজে পথচলা শুরু হয়। প্রথম বছরই দেখেন লাভের মুখ। দেড় একর জমিতে কলা চাষ করে খরচ বাদে লাভ হয় লাভ হয় আড়াই লাখ টাকা। আর ৩২ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করে দেড় লক্ষাধিক টাকা লাভ হয় তার৷

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি কাতলাসেন কাদিরিয়া কামিল মাদ্রাসায় কামিলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর। বছর তিনি পাঁচ একর জমিতে পাঁচ হাজার কবরি কলা গাছ লাগিয়েছেন। আশা করছেন প্রাকৃতিক কোন সমস্যা না হলে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকার কলা বিক্রি করা যাবে। আর তাতে লাভ হবে বিক্রির অর্ধেক।

এছাড়াও রায়হান পাঁচ একর জমিতে চাষ করেছেন বেগুন। যেখান থেকে এখন প্রতি সপ্তাহে বেগুন  উঠছে ৯০ থেকে ১২০ মণ। মৌসুমের শুরুর দিকে বেগুনের বাজারদর কম থাকলেও এখন এক হাজার টাকা মণ। বেগুনে খরচ বেশি হওয়ার পরও এখান থেকে থেকে তার ১০ লাখ টাকা লাভ আসবে বলে আশা তার।

আবু রায়হান কলা আর বেগুনের পাশাপাশি কয়েক বন্ধুকে সাথে নিয়ে করেছেন পেঁপে চাষও। সাড়ে ছয় একর জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়ে লাগিয়েছেন পেঁপের চারা। হাইব্রিড জাতের রেড কইন, টপ লেডি, বাবু এই তিন জাতের সাত হাজার পেঁপের চারা লাগিয়েছিলেন তিনি।

এখন সাত হাজার ফলবতী পেঁপের সৌন্দর্যের হাসিতে হাসছেন ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সফল পেঁপেচাষি চাষিরা। সাত হাজার পেঁপে গাছের বাগান বিক্রি করেছেন ৩২ লাখ টাকায়। খরচ বাদে লাভ হয়েছে বিক্রির প্রায় অর্ধেক।

গতকাল শুক্রবার বিকালে উপজেলার ৮নং ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি পেঁপে গাছে ঝুঁলে আছে ৫০ থেকে ৮০ টি করে। পাঁচ থেকে আট ফুট উচ্চতার প্রতিটি গাছেই গুচ্ছাকারে ধরে আছে পেঁপে। যেদিকে চোখ যায় শুধু পেঁপে আর পেঁপে। আবু রায়হানের বাগানে হয়েছে ১৫ জন মানুষের কর্মসংস্থানও। নিয়মিতভাবে তারা দৈনিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন এখানে।

আজকের পত্রিকাকে চাষি আবু রায়হান বলেন, ২০১৮ সালে প্রথমে আমি কলা বেগুন  দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিলাম। প্রথম বছরেই বেশ  লাভবান হয়েছিলাম। তারপরের বছর গুলোতেও আমি ধারাবাহিকভাবে লাভবান হয়েছি ফল সবজি চাষ করে।

তিনি আরও বলেন, আমি কৃষকের সন্তান আমরা বুঝি কোন ফসলে কি দিতে হবে। কোন কিছু জানার দরকার হলে ইন্টারনেটে মাধ্যমে গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করে দেখে নেই। উপজেলা কৃষি অফিসের কাউকে আমি এখন পর্যন্ত আমার বাগানে আনতে পারেনি। কয়েকবার বলার পর এখনো কেউ  আমার বাগানে আসেনি।

পেঁপে চাষে আগ্রহীদের করণীয় সম্পর্কে আবু রায়হান বলেন, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ ফসল। এটাতে অনেক  সময় মুজাইক ভ্যাইরাসে আক্রমণ করে। প্রথমত পেঁপে চাষে উঁচু জমি নির্বাচন; কারণ নিচে পানি জমে গেলে পেঁপে কখনোই হবে না। দ্বিতীয়ত, কৃষকের অধিক আগ্রহ কঠিন পরিশ্রম করার ইচ্ছাশক্তি। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনে আধুনিক কলাকৌশল পরিচর্যা সম্পর্কে আগ্রহ থাকতে হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ যদি তিনি বেখেয়ালী হন তাহলেই বাগান শেষ। আর কঠিন পরিশ্রম করার ইচ্ছাশক্তি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, শিক্ষিত বেকার যুবকরা যদি চাষে অগ্রসর হন, তাহলে তারাও লাভবান হবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ পেঁপে চাষে ভাগ্য বদলে ফেলা যায়।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার  জানান, আমাদের কৃষকেরা পেঁপে চাষের ক্ষেত্রে দুই ধরণের জাত নির্বাচন করে থাকে। একটি হল শাহী জাতের পেঁপে আর অন্যটি রেডলেডি।