মারা গেলো আগুনে দগ্ধ শিশু আরাফাত !

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২১

দগ্ধ শরীর নিয়ে জীবন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলো ১১ বছরের ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী শিশু আরাফাত হোসেন। ৬ দিন যাবত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গতকাল রোববার সকালে মারা যায়।
সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটি থেকে মোবাইল ফোনে শিশু আরাফাতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন আরাফাতের মামা জামাল উদ্দিন।
মামা জামাল উদ্দিন জানায়, স্থানীয় চালকল কালাম সরকারের রাইস মিল থেকে রাতের আঁধারে আগুনসহ ছাই রাস্তার পাশে ফেলে যায়, জলন্ত ছাইয়ে ভাগ্নে আরাফাত খেলতে গেলে তার শরীরের নীচের অর্ধেক পুড়ে যায়। এ পর্যন্ত একটা খোঁজ নেয়নি এই এই অটো রাইস মালিকরা। আমি প্রশাসনের কাছে এই হত্যার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করি।
গত সোমবার বিকেলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে রাস্তার পাশে একটি অটো রাইস মিলের ফেলে রাখা পরিত্যক্ত ছাইয়ের টিবির কাছে খেলতে গিয়ে আগুনের ছাইয়ের টিবিতে পড়ে শরীরের নীচের অংশসহ পুড়ে যায় আরাফাতের।
জানা যায়, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাক্তা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। আগুনে দগ্ধ শিশু আরাফাত হোসেম পাশ্ববর্তী কৈয়ারচালা গ্রামের সিএনজি চালক আয়নাল হকের ছেলে। আরাফাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মচিমহ হাসপাতাল রেফার্ড করলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় আরাফাতকে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ বাঙ্গালী অভিযোগ করেন, ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাকতা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সরকার অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে দায়সারাভাবে ফেলে রাখা ছাইয়ে দগ্ধ হয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন (১১) হাসপাতালে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেলো । শিশু আরাফাতের শরীরের নিচের অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়।
তারা আরো অভিযোগ করেন, রাইস মিলটির বিরুদ্ধে পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিল মালিক কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে মিলে জমে থাকা আগুনসহ ছাই ট্রাকে করে সড়কের পাশে ফেলে রাখে রাতের আধারে । খেলতে গিয়ে ফেলে রাখা ছাইয়ে দগ্ধ হয় পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন। এ পর্যন্ত ৫-৬ জন শিশু দগ্ধ হয়েছে। শ্রীপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের ছেলে ফাহমিদুল ইসলাম (১০) সড়কের পাশে অটো রাইস মিলের ফেলে রাখা ছাইয়ে খেলতে গিয়ে পা পুড়ে যায় কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ তাদের কথা শোনে না। শিশু দগ্ধ হওয়ার পর মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। উল্টো হুমকি দেয় বলে জানায় তারা।
মিল মালিক আবুল কালাম সরকার জানান, প্রতিবছর একবার মিল থেকে ছাই অন্যত্র সরানো হয়। মিলের ছাই সড়কে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখার কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাখন বলেন, মিলের ছাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখা নতুন কিছু নয়। সড়কের পাশে ছাই ফেলতে নিষেধ করেছি। মিল মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আমার কথায় কর্ণপাত করেন না।
এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল সিদ্দিক জানায়, ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক, নিশ্চয়ই খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার নাওগাও, বাক্তা, পুটিজানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় লোকালয়ে যত্রতত্র ভাবে ফেলে রাখা হয়েছে সরকার রাইস মিলের বিষাক্ত ছাই, যা বাতাসে উড়ে পরিবেশ দূষন করছে ব্যাপকভাবে।
আরাফাতের চিকিৎসার ব্যাপারে তার পরিবার ব্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত দোষিদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি বলে জানায় নিহত আরাফাতের স্বজনরা।