বিজয় দিবসকে অবজ্ঞা

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার: গত বুধবার ছিল বিজয়ের ৫০ বছরের সেই দিন। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে কাঙ্খিত বিজয় অর্জন করেছিল বাঙ্গালি জাতি। এই দেশে উদিত হয়েছিল নতুন এক সুর্যের। সে সুর্য কিরণে লেগে ছিল রক্ত দিয়ে অর্জিত সবুজ বাংলার “লাল-সবুজ পতাকা”।
করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবার নাম মাত্র কর্মসূচী দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ দিবসটি উপলক্ষে ঐ দিন সূযোর্দয়ের সাথে সাথে দেশের সর্বত্র অফিস আদালত, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বিভিন্ন দলীয় অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিকে উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। অবজ্ঞা করা হয়েছে মহান বিজয় দিবসকে।
ঐ দিন দুপুর ১২টা ৫৮মিনিটে অত্র উপজেলার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের ৫৭নং পাহাড় অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারিভাবে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড। কিন্তু সেই ষ্ট্যান্ডে দেখা যায়নি জাতীয় পতাকা। সাংবাদিকের পরিদর্শনের খবর পেয়ে প্রায় ঘন্টা খানিক পর প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা আখতার ও তার স্বামী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকের কাছে গিয়ে ক্ষীপ্ত হয়ে বলেন, পুরাতন ভবনের গাছের আড়ালে জাতীয় পতাকা উড়ানো ছিল, কিন্তু আপনারা তা দেখেননি। তাৎক্ষনিকভাবে সাংবাদিকরাও তীব্রভাবে প্রতিবাদসহ মিথ্যা কথা না বলার অনুরোধ করে বলেন- স্কুল ক্যাম্পাসে কোথায়ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছিল না। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ৭নং বাক্তা ইউনিয়নের ১৩৩নং গাড়াবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল্যাহ আল বাকী বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি তা অত্যন্ত দুঃখ জনক। এর জন্য তাদেরকে শোকজ করা হবে।
অপরদিকে বেলা ২টা ২৭মিনিটে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকটি পাওয়া যায় সম্পুর্ণ তালাবদ্ধ। উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। ঝোপঝাড় ও মাকড়সার জালে আচ্ছন্ন এ ক্লিনিকটি নিয়মিত খোলা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। সেবাদানকারী সিএইচসিপি ফারজানা আফরোজ এর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
বেলা ২টা ৫৭মিনিটে ১নং নাওগাঁ ইউনিয়নের কেশরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন নাওগাঁও কমিউনিটি ক্লিনিকটিও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। জাতীয় দিবসে সেখানেও পতাকা উড়াতে দেখা যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বিধান চন্দ্র দেবনাথ ফুলখড়িকে বলেন, এ বিষয়ে তাদেরকে শোকজ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক ফুলখড়িকে বলেন, বিজয় দিবসের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে না- এটা হতে পারে না। এর জন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।